ভাঙ্গুড়ায় ৪ পরিবারকে ‘লক ডাউন’ দিয়ে সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ, প্রতিকার দাবী
ভাঙ্গুড়ায় ৪ পরিবারকে ‘লক ডাউন’ দিয়ে সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ, প্রতিকার দাবী

ভাঙ্গুড়া(পাবনা)প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ৪টি পরিবারকে লক ডাউন ও সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নে পাটুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের তীর যাদের দিকে তারা হলেন,পাটুল গ্রামের গ্রাম্য প্রধান, হাবিবুর রহমান, মোজাম্মেল হক, দিলপাশার ইউনিয়ন সচিব শামীম হোসেন, আলতাব হোসেনসহ কতিপয় গ্রামবাসী। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্ত ভোগী মোঃ সোরাব প্রাং,নূর মোহাম্মদ প্রাং আব্দুল লতিফ প্রাং, শহিদুল ইসলাম প্রাং। ১১ মার্চ বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তারা এমন অভিযোগ করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে গ্রাম্য প্রধান মোজাম্মেল হক বলেছেন, তারাই ওই চার পরিবার থেকে নিজেদেরকে দূরে রেখেছেন।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের তিন নং নম্বর ওয়ার্ডের পাটুল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাদের বাপ দাদা পূর্বপুরুষ থেকে যুগ যুগ ধরে এই গ্রামে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু গত ৫ই মার্চ বৃহস্পতিবার পূর্ব ঘটনার যে ধরে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে আমাদের পাটুল গ্রামের গ্রাম্য প্রধান, হাবিবুর রহমান, মোজাম্মেল হক দিলপাশার ইউনিয়ন সচিব শামীম হোসেন, আলতাব হোসেনসহ কতিপয় গ্রামবাসী সালিশের নামে তাদের ৪টি পরিবারকে সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ, লকডাউন করে রেখেছেন। স্বাভাবিক জীবন যাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য, মসজিদে ইবাদত বন্দেগী করতেও বাধা প্রদান করছেন। কি আমাদের অপরাধ ? আমরা কি অন্য গ্রহের মানুষ ?
ভুক্তভোগীরা জানান,পাটুল বাজার সংলগ্ন একটি জমি রেজিস্ট্রি দলিল মূলে তারা ওই জমির মালিক। কিন্তু জমির এক প্রান্তে হাবিবুর রহমান গং খাস সম্পত্তি দেখিয়ে দোকান ঘর, নির্মাণ করে তারা ভোগ দখল করছেন। দলিল মূলে যেহেতু তারা ওই সম্পত্তির মালিক। ওই সম্পত্তির মালিক দাবি করাতেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সচিব শামীম হোসেন, আলতাব হোসেন গং দের সাথে হাত মিলিয়ে শুক্রবার বিকেলে ইউনিয়ন সচিব শামীম হোসেনের নির্দেশনায় গ্রাম পুলিশ দিয়ে লোক ডাকিয়ে সভা করে সোহরাব প্রামানিক, শহিদুল প্রামানিক, আব্দুল লতিফ প্রামানিক ও নুর মোহাম্মদ প্রামানিক এই ৪টি পরিবারকে সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ এবং লকডাউন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয় ওইখানে পল্লী চিকিৎসক গজেন্দ্রনাথ হালদার কেও ডেকে তারা কঠোর নির্দেশনা দেন যে উল্লেখিত ওই চার পরিবারকে অসুস্থ্য হলে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাও দেয়া যাবে না।
আরো জানান, যদি কোন অপরাধ করে থাকি। আইন আদালত আছে তার মাধ্যমে তাদের বিচার ব্যবস্থা হোক। কিন্তু উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ গ্রাম্য প্রধানের দায় দিয়ে বর্বর যুগের কায়দায় তাদের চার পরিবারকে ব্যবসা বাণিজ্য, স্বাভাবিক চলাচলে, মসজিদে ইবাদত বন্দেগীতে, লকডাউন সামাজিক অবরুদ্ধের তাদের মৌলিক অধিকার সহ মানবাধিকার হরণ করছেন। যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। এই অধিকার তাদেরকে দিয়েছেন?
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবী করেন,পাটুল গ্রামের বাসিন্দা নাজিমুদ্দিনের ছেলে ও দিলপাশার ইউনিয়নের সচিব শামীম হোসেন। সরকারি চাকরি করলেও এলাকাতেই অবস্থান করেন। মূলত হাবিবুর রহমান ও ইউপি সচিব শামীম হোসেন প্রধানদের উস্কানি দিয়ে বর্বর যুগের এই সামাজিক অবরুদ্ধ, লকডাউন আরো করে আমাদের চার পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন। মধ্যযুগীয় বর্বরতার পরিচয় দিয়ে সামাজিক অবরুদ্ধতা ও লকডাউন, মসজিদে নামাজ পড়াসহ স্বাভাবিক জীবন চলাচলে বাধাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবিও জানান।
ঘটনার বিষয়ে পাটুল গ্রামের গ্রাম্য প্রধান মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছি বিষয়টি সঠিক নয়। তারা স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করছেন। তবে আমরা তাদের নিকট থেকে নিজেদের দূরে রেখেছি।’
ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘লক ডাউন কিংবা সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ এ বিষয়ে তিনি কোন লিখিত অভিযোগ পান নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সপেক্ষা অইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।