ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সড়ক সংস্কারকাজ ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ। উপজেলার ভাঙ্গুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের নওগাঁ পর্যন্ত এই সড়কের প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সংস্কারকাজ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৪০ ভাগ কাজ করেছে ঠিকাদার। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যাত্রীরা।
জানা যায়, উপজেলা প্রকৌশল অফিসের অধীনে ছয় কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের কাজটি পায় পাবনার বরেন্দ্র লিমিটেড।
কিন্তু কাজটি কিনে নেন পাবনার রিজন আহমেদ নামের আরেক ঠিকাদার।ঠিকাদার কাজ শুরুর পর আংশিক কাজ করে একাধিকবার কাজ ফেলে রেখে চলে যান। এতে এ বছরের এপ্রিল মাস পার হতে চললেও মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অথচ ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজটি শেষ হওয়ার কথা গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর।
এই সড়কের খোয়ার ওপর মোটরসাইকেলের চাকা স্লিপ করে গত ১৫ মার্চ মোটরসাইকেল আরোহী এক এনজিওকর্মী ও তাঁর ছেলে ট্রাকের পেছনের চাকার নিচে পড়ে মারা যায়। এ ছাড়া ইট ও খোয়ার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
খানমরিচ ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার সময় সড়কে রাখা খোয়ার কারণে তীব্র ঝাঁকুনিতে সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে।’
খানমরিচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘ঠিকাদার ও এলজিডি অফিসকে কাজটি শেষ করার জন্য বলেছি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার রিজন আহমেদ বলেন, ‘মাত্র ২৫ শতাংশ বিল পেয়েছি। তাই কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। এলজিইডি অফিস বিল দিলেই আবার কাজ শুরু করা হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামাণিক বলেন, ‘ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করতে চিঠি ইস্যু করেছি। এর পরও ঠিকাদার কাজ না করলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ পর্যন্ত সড়কের ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে বলে তিনি জানান।