ভাঙ্গুড়া(পাবনা)প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ১২ বছরের পূর্বের রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের শর্ত পুরন না করে প্রায় ৩০ বছর বয়সী তিনটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাইফুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে। উপজেলার ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের দক্ষিণ মেন্দা ২নং ওয়ার্ডের শাহাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। দলিলের শর্ত পুরণ না করে গাছ কাটার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় জমির মালিক ছাইদুর রহমান নাসির বাদী হয়ে ছাইফুল গংদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ বলেছেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে । সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধান ও রেজিস্ট্রিকৃত দলিল অনুযায়ী জানা গেছে, পৌর সদরের ২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিন মেন্দা শাহাপাড়া এলাকায় ছাইদুর রহমান ১৯৯৯ সালের দিকে ৪৫০০ দাগে ৩৭ শতক জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হন। যার খাজনা খারিজ হালনাগাদ রয়েছে। ২০০৯ সালের দিকে ৩০৯ নং দলিল মূলে তার আপন ছোট ভাইয়ের নিকট ্একই জমির উত্তর দিক হতে পৃর্ব-পশ্চিম লম্বা করে ১০ শতক জমি রেষ্ট্রিকরে দেন। এর বেশ কয়েক বছর পর ছাইদুর রহমানের মা অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে সাজেদা খাতুন নামক এক মহিলার নিকট ২০২১ সালে ১৪৯ নং দলিল মূলে মূল সম্পত্তির উত্তর দিক থেকে ৫ শতক জমি বিক্রয় করেন। কিন্তু সাজেদা খাতুন জমিতে কখনোই দখলে যান নি। সাজেদা খাতুন তার সাংসারিক প্রয়োজনে ছাইফুল ইসলাম গংদের নিকট বিক্রয় করেন সস্প্রতি কালে। তিনিও ওই জমির দালিলে উত্তর দিকে উল্লৈখ করেন। সম্প্রতি ছাইফুল গং ছাইদুর রহমানের ছোট ভাইকে দেওয়া উত্তর দিকের ১০ শতকের উপর তাদের রোপনকৃত প্রায় ৩০ বছর বয়সী তিন তিনটি মেহগণি কেটে নিয়ে যেতে চাইলে ছাইদুর রহমান বাধা প্রদান করেন। কিন্তু ছাইদুর রহমানের বাধা উপেক্ষা করে মেশিন দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে গাছগুলি কেটে ধরাসায়ী করে ।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর নীতি অনুযায়ী, একই দাগের জমি যখন একাধিকবার বিক্রি হয়, তখন প্রথম দলিল গ্রহীতা সবসময় অগ্রাধিকার পান । ২০০৯ সালের ক্রেতা আগে পাবেন: যেহেতু মূল মালিক ৩৭ শতক জমির মধ্য থেকে ২০০৯ সালেই "উত্তর দিক থেকে ১০ শতক" বিক্রি করে দিয়েছেন, তাই উত্তর দিকের প্রথম ১০ শতকের আইনগত মালিক ২০০৯ সালের ক্রেতা। মূল মালিকের অবশিষ্ট জমি: এই ১০ শতক বিক্রির পর মূল মালিকের কাছে বাকি থাকে (৩৭ - ১০) = ২৭ শতক জমি, যা ওই দাগের দক্ষিণ বা মধ্যভাগে অবস্থিত। এর পরের অংশ থেকে ২০২১ সালের ১৪৯ দলিল মূলে বিক্রিত ৫ শতক জমি পাবেন। তা না নিয়ে ২০০৯ সালের দলিল কে অগ্রাহ্য করা আইন সম্মত নয়।
এ সময় ৪৫০০ দাগের অধিকাংশ জমির মালিক ছাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর পূর্বে ২০০৯ সালের ৩০৯ নং দলিলের শর্ত পুরনসাপেক্ষ ২০২১ সালের ১৪৯ নং দালিলের শর্ত মোতাবেক আপনারা আপনাদের ৫ শতক জায়গা বুঝে নেন। ফলে বাধ্য হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের দলিলের শর্ত পূরনপৃর্বক তার জমি তিনি বুঝে নিয়ে নিক তাতে তার কোনো আপত্তি নেই।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে । সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ বদরুল আলম -০১৭১২৯৫৭০৬৬,
নির্বাহী সম্পাদকঃ সফিক ইসলাম,-০১৭১৬৪৯২৪১৫,
বার্তা সম্পাদকঃ আব্দুর রহিম-০১৭১৫৮৪৪১৬২
Copyright © 2024 Protidinerjonopod