প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ৫:৩৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ১০:৫০ এ.এম
ভাঙ্গুড়ায় মহামারীতে রূপ নিয়েছে নকল দুধের কারবার
ভাঙ্গুড়া সংবাদদাতা: গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল ও কস্টিক সোডা দিয়ে নকল দুধ তৈরির কারবার মহামারীতে রূপ নিয়েছে পাবনার ভাঙ্গুড়ায়। দুগ্ধ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের খামারিরাও এই নকল দুধের কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন।
এতে গত এক বছরে নকল দুধের কারবার প্রতিরোধে প্রশাসন অন্তত ৭/৮টি অভিযান চালিয়ে জেল জরিমানা করেছে। তবে এতেও থামেনি নকল দুধ তৈরির কারবার।
সর্ব শেষ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতেও নকল দুধ তৈরির অপরাধে আশরাফুল (৪০) নামে এক দুগ্ধ ব্যবসায়ীকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত কৃষিনির্ভর ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বর্তমানে দুগ্ধ ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষক।
এসব কৃষকের দুটি গরু থেকে অর্ধশত গরুর খামার রয়েছে। এ কারণে ভাঙ্গুড়ার কৃষি অর্থনীতি মূলত দুগ্ধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বর্তমানে কৃষকরা গরুর খামারের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করেছে। তবে অর্ধ যুগ আগে দুগ্ধ ব্যবসায় নকল দুধের রমরমা ব্যবসা শুরু হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাঙ্গুড়াতে দৈনিক দেড় থেকে দুই লক্ষাধিক লিটার দুধ উৎপাদন হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে এই দুধ উৎপাদন কম-বেশি হয়। রাষ্ট্রীয় দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দৈনিক লক্ষাধিক লিটার দুধ সংগ্রহ করে।
তবে এর অধিক পরিমাণ দুধ সরকারি অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত অর্ধ শতাধিক প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। ফলে উপজেলায় খামারীদের হিসাবের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দুধ উৎপাদন হওয়ায় দুধের উৎস নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সেমিনারে প্রশ্ন তোলেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ মে পাবনার নবাগত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ভাঙ্গুড়ায় মতবিনিময়সভায় এবং উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় প্রায়ই এই নকল দুধ তৈরির বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নিতে বক্তারা আহ্বান জানান।
এর আগে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের নিয়ে সমাবেশ করে নকল দুধ তৈরি বন্ধে সতর্ক করেছেন। তবে এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ২০০ লিটার নকল দুধ ও দুধ তৈরির বিভিন্ন কেমিক্যাল জব্দ করে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুজ্জামান। তবে এই অভিযান নিয়মিত চললেও নকল দুধ তৈরির প্রভাবশালী চিহ্নিত মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন বলে অভিযোগ তোলেন জেল-জরিমানা ভোগকারী দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ বদরুল আলম -০১৭১২৯৫৭০৬৬,
নির্বাহী সম্পাদকঃ সফিক ইসলাম,-০১৭১৬৪৯২৪১৫,
বার্তা সম্পাদকঃ আব্দুর রহিম-০১৭১৫৮৪৪১৬২
Copyright © 2024 Protidinerjonopod