Breaking News :

ভাঙ্গুড়ায় গাছে বেঁধে পিটুনীর শিকার সেই বৃদ্ধের ঈদের দিন মৃত্যু

ভাঙ্গুড়া(পাবনা)প্রতিনিধিঃ
নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গাছে বেঁধে বেধড়ক পিটুনির শিকার সেই বৃদ্ধ মোঃ ইনতাজ আলী (৬০) মৃত্যুবরণ করেছেন। বেধড়ক পিটুনির শিকার ইনতাজ আলী প্রায় দুই মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চলে যান না ফেরার দেশে। ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৯টা দিকে ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের নুরনগর গ্রামে। এতে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিনত হয়েছে ওই পরিবারে। নিহত ওই বৃদ্ধা অষ্টমনিষা ইউনিয়নের মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি সকাল বেলা ইনতাজ আলী তার বসত বাড়ির ঘরে বসে খাবার খাচ্ছিল। এমন সময় নুরনগর এলাকার শেরো বাংলা, হাবিব, জাকারিয়া,হাবিব, জিন্নাসহ ১০/১২ জন তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বাড়ির পাশে গাছের সাথে বেধে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনায় তার ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে ১০ হনকে আসামী করে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি মামলা দাযের করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন।

স্থানীয়, পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ শে জানুয়ারি সকাল বেলা ইনতাজ আলী তার বসত বাড়িতে সকালের খাবার খাচ্ছিল। এমন সময় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে , মোঃ শেরে বাংলা (৫০), জাকারিয়া (৪০), হাবিব (৪৫), সর্ব পিতা- রহমান, রব্বেল (৬০), পিতা-মৃত হোসেন প্রাঃ, জিন্নাহ (৩৮), পিতা- মোঃ রব্বেল, ফরিদ (৩৬), পিতা- মৃত আহম্মদ, আজগর (৬০), পিতা-মৃত আহম্মদ, মাসুদ (৩২), পিতা-মৃত ইলাই, রব্বানী (২৫), রুবেল (৩০), উভয় পিতা- মোঃ আজগার, সর্ব সাং- নুরনগর, থানা- ভাঙ্গুড়া, জেলা-পাবনা।

আরও জানা গেছে, আসামীদের সাথে তাদের পারিবারিক জমি-জমা সংক্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযুক্তরা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে তালবাহানা করে আসছে দীর্ঘদিন ধলে। ঘটনার দিন গত ২১/০১/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান-১০.৩০ ঘটিকায় আমার বড় ভাই মোঃ ইনতাজ আলী (৬০), তার বসতবাড়ির উঠানে নাস্তা করতেছিল সেই সময় অভিযুক্তরা বেআইনী জনতায় দলবন্ধ হয়ে হাতে বিভিন্ন লাঠি-সোঠা, লোহার রড, কোদাল, হাত-দা নিয়ে ইনতাজ এর বসত বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সফল অভিযুক্তরা ইনতাজের উপর হামলা করে এবং তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছের সাথে বেধে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। ইনতাজ আলীর চিৎকার চেঁচামেচিতে তার স্ত্রী মর্জিনা বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে তাকেও পিটিয়ে বিবস্ত্র করে লাঞ্ছিত করেন।

ইনতাজ আলী বাচাঁও বাচাঁও বলে ডাক-চিৎকার করলে অভিযুক্তরা তার গলায় রশি বেঁধে টেনে-হিচড়ে নিয়ে বাড়ির পাশে নিয়ে গাছের সাথে বেধে মারধর করে। এসময় ইনতাজ আলী অভিযুক্তদের নিকট তুষ্ণার্ত হয়ে পানি খেতে চাইলে ১নং আসামী অন্যান্য আসামীদেরকে প্রসাব আনার নির্দেশ দিয়ে বলে “যে, “শালাকে প্রসাবই খাওয়া”। ইনতাজের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ইনতাজকে ছেড়ে দিতে বললে আসামীরা তাদেরকেও গালিগালাজ করে ভয়-ভীতি দেখায়। তখন প্রতিবেশীরা জোরালে প্রতিবাদ করলে এবং থানায় সংবাদ দিলে আসামীরা ইনতাজকে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় ইনতাজকে উদ্ধারপূর্বক ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং তার স্ত্রী মর্জিনাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এর পর ইনতাজ আলীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক তাকে রেফার্ড করেন। তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে নিজ বাড়িতে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে গত ২৪ জানুয়ারিতে ১০ জন কে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু ঈদের দিন সকাল বেলা অসুস্থ্যবতায় গাছে বেঁেধ পিটুনীর শিকার ইনতাজ আলী মৃত্যুবরণ করেন। এতে তার পরিবারের ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে যায় ।

ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে সুরৎহাল প্রতিবেদন শেষে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com